একের পর এক ভুলে ম্যাচ প্রায় হাত থেকে ফসকে দিয়েছিল বাংলাদেশ এ দল। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলে ভারত এ দল। এরপর খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পরপর দুই বলেই দুই উইকেট হারিয়ে স্রেফ ১ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। সেই সহজ লক্ষ্য কঠিন করে তোলার পর ওয়াইডের কল্যাণে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে হাবিবুর রহমানের হাফ সেঞ্চুরি ও মেহেরব হোসেন অহিনের শেষের ক্যামিওতে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্যাচ ও ফিল্ডিং মিসের মহড়ায় ভারতও নির্ধারিত সময়ে ৬ উইকেটে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে। ফলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়।
সুপার ওভারে মাত্র ১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ইয়াসির আলি রাব্বি। তবে পরের বলেই বাংলাদেশকে উদ্ধার করেন ভারতীয় স্পিনার সুয়াশ শর্মা। তিনি ওয়াইড দেওয়ায় আর কোনো ভুল করতে হয়নি আকবর-জিসানদের। আগামী ২৩ নভেম্বর ফাইনালে বাংলাদেশ লড়বে পাকিস্তান ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের ম্যাচে বিজয়ী দলের সঙ্গে।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন দুই টাইগার ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও জিসান আলম। তাদের ওপেনিং জুটিতে ৪.২ ওভারেই আসে ৪৩ রান। জিসান আউট হন ১৪ বলে ২৬ রান করে। এরপর দ্রুত আরও বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন সোহান। তিনি ৪৬ বলে ৬৫ রান করে আউট হয়ে যান।
তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি জাওয়াদ আবরার (১৩), আকবর আলী (৯) ও আবু হায়দার রনি (০)। ব্যর্থ হয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও (১)। শেষদিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের রান ১৯৪ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন মেহেরব হোসেন অহিন ও ইয়াসির আলী রাব্বি। মেহেরব ১৮ বলে ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রান।
১৯৫ রানের বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৫৩ রান তুলে ফেলে ভারত। তারকা ব্যাটার ভৈবভ সূর্যবংশী আউট হন ১৫ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে। আরেক ওপেনার প্রিয়াংশ আরিয়া ২৩ বলে ৪৪ রান করেন। যদিও ব্যর্থ হয়েছেন নামান ধীর। তিনি ১২ বলে ৭ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক জিতেশ শর্মার ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৩৩ রান।
পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন নেহাল ওয়াদহেরা ও রামানদীপ। তাদের পঞ্চম উইকেটে আরও ২৬ রান আসে। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৬ রান। বোলিংয়ে ছিলেন রাকিবুল। প্রথম দুই বলে মাত্র দুই রান খরচ করেন। যদিও পরের দুই বলে দুটি বাউন্ডারি হজম করেন। চার বল শেষে ভারতের আরও নাগালে চলে আসে ম্যাচ। শেষ দুই বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল মোটে ৪ রান। এমন সময় দারুণ ব্রেকথ্রুতে ম্যাচ জমিয়ে দেন রাকিবুল। উড়ে যায় থিতু হয়ে যাওয়া আশুতোষের উইকেট।
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ তখন আবারও বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়ে। যদিও শেষ বলের নাটকীয়তার তখনো বাকি। হার্ষ দুবে অফ–স্টাম্পের বাইরে ইয়র্কার লেন্থের বল সরাসরি লং অনে খেললেন। ব্যাটাররা প্রথম রান নেওয়ার পরই দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটলেন। থ্রোটা ছিল কিপার আকবর আলীর দিকে, তিনি বল ঠিকঠাক স্টাম্পে আঘাত করতে পারলেন না। বাংলাদেশের এমন বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে ভারতীয় ব্যাটাররা তৃতীয় রানটাও নিয়ে নেন। যার পরিণতি সুপার ওভার। যদিও সুপার ওভারে আরেক দফা নাটকীয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই।