দীর্ঘ ছুটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পুরো ফাঁকা। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ২৩ দিনের ছুটিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই প্রিয়জনের কাছে ফিরে গেছেন। হলগুলোও বন্ধ (২৩ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত)। কিন্তু শূন্য এই ক্যাম্পাসেও কেউ কেউ রয়ে গেছেন, যাঁদের যাওয়ার উপায় নেই। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দেশপ্রেম যে তাঁদের ছাড়েনি। তাঁরা ক্যাম্পাসের আনসার সদস্য। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জোন মিলিয়ে ৯৪ জন আনসার সদস্য প্রতিনিয়ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। প্রধান ফটক থেকে হলের পকেট গেট; সর্বত্রই তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন, যখন বাকি সবার স্বপ্ন গেছে বাড়ি।
ঈদের ছুটিতে শূন্য ক্যাম্পাসে এই কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন পরিবার ছেড়ে, আরাম ছেড়ে। সংস্থানটুকু না পেয়েও দায়িত্ব পালন করছেন নিরলসভাবে। প্রশ্ন একটাই, তাঁদের প্রতি দায়িত্বটুকুর কবে পালন হবে?
আনসার সদস্য আনিসুর বলেন, দায়িত্ব রেখে তো যাওয়া যায় না। বাচ্চাদের বেশি মিস করি। ঈদে বাড়িতে থাকলে একসঙ্গে নামাজ পড়তে যেতে পারতাম।’ কথাগুলো সহজ, কিন্তু ভেতরে চাপা কষ্ট স্পষ্ট। ঈদের সকালে সন্তানের হাত ধরে মাঠে না যেতে পারার বেদনা, এটুকু কথায় অনেক কিছু প্রতীয়মান।
আরেক আনসার সদস্য ফরিদুল বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব। তাই কষ্ট হলেও মেনে নিতে হয়। রোজার ঈদ করিনি, কোরবানির ঈদও এখানেই থাকতে হবে। তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছি ভেবে ভালো লাগে।’ পরপর দুটি ঈদ পরিবার ছাড়া, এ বাস্তবতা তিনি মেনে নিয়েছেন সেবার মনোভাব থেকে।
আরেক সদস্য বলেন, ‘গত ঈদও পরিবারের সঙ্গে করতে পারিনি। এবারও যাওয়া হচ্ছে না। এখানে আমরা যারা আছি, আমরাই পরিবারের মতো করে ঈদ পালন করি।’ সহকর্মীরাই তাঁদের ঈদের সঙ্গী, এই ছোট্ট কথায় একটা নিঃসঙ্গ উষ্ণতা আছে।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com

তবে দায়িত্বের প্রতি এই নিষ্ঠার বিপরীতে রয়েছে বঞ্চনার দীর্ঘ গল্পও। দিনরাত ক্যাম্পাস পাহারা দেওয়া এই মানুষদের থাকার পরিবেশ এখনো অমানবিক।
একাধিক আনসার সদস্য জানান, পকেট গেটের নিরাপত্তাকক্ষগুলোয় কোনো বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই, নেই ফ্যান, নেই আলো। দিনের ভ্যাপসা গরমে ডিউটি শেষে ক্যাম্পে ফিরেও বিশ্রামের পরিবেশ নেই। মশার উপদ্রব সহ্য করে রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টি এলে নিরাপত্তাকক্ষ ও ক্যাম্পে পানি ঢুকে পড়ে। কুষ্টিয়া জোনের ক্যাম্পে নেই আলাদা শৌচাগার। যেতে হয় মসজিদের শৌচাগারেই। তাঁরা আরও জানান, এর আগেও এসব সমস্যার কথা জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু সমাধান আসেনি। প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকক্ষের ফ্যানগুলোও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ ডিউটি শেষে ন্যূনতম স্বস্তিটুকুও তাঁদের জোটে না।
ঈদের ছুটিতে শূন্য ক্যাম্পাসে এই কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন পরিবার ছেড়ে, আরাম ছেড়ে। সংস্থানটুকু না পেয়েও দায়িত্ব পালন করছেন নিরলসভাবে। প্রশ্ন একটাই, তাঁদের প্রতি দায়িত্বটুকুর কবে পালন হবে?
সূত্র: প্রথম আলো