শিরোনামঃ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি, পুরোপুরি আলাদা হলো বিচার বিভাগ ঈশ্বরদীতে গুলি ছোড়া যুবক জামায়াতের কর্মী: পুলিশ বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আ. লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: তদন্ত কমিশন সবুজ সংকেত পেলেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া হবে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: প্রেস সচিব আশা করি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: সিইসি খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট বিবিসিকে সজীব ওয়াজেদ জয়: আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনে ‘বিদেশ থেকে খেলা চলছে’ অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেয়ার চিন্তা ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে গুলি ছোড়া যুবক জামায়াতের কর্মী: পুলিশ

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া সেই যুবক জামায়াতের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের দিন অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবক তুষার মণ্ডল জামায়াতের কর্মী। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।’

তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তুষার পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা পাল্টাপাল্টি দুই মামলায় উভয়দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুজন এবং বিএনপির তিনজন কর্মীকে আটক করা হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আব্দুর নূর বলেন, ‘দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা করেছে। দুই পক্ষের মামলার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’

এর আগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার দুপুরে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অপর মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষ কদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর একটি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী সমর্থক আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।


এ জাতীয় আরো খবর...