নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও সামান্য শরীরচর্চার মাধ্যমে কোরবানির ঈদের ভরপুর আনন্দ উপভোগ করেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মাল্টি জিম প্রিমিয়ামের ফিটনেস ট্রেইনার নাহিয়ান রানা।
কোরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর রসনাবিলাস। বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এই উৎসবে গরু-খাসির মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কাচ্চি, রেজালা, কালাভুনা, কাবাব কিংবা ঝোল—প্রতিটি খাবারের কেন্দ্রেই থাকে লোভনীয় লাল মাংস। কিন্তু আনন্দের এই খাবার যদি হয় অনিয়ন্ত্রিত, তাহলে ঈদের পরই দেখা দিতে পারে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এমনকি উচ্চ রক্তচাপ ও ব্লাড সুগারের ঝুঁকিও।

তবে সচেতনভাবে খেলে কোরবানির ঈদেও সুস্থ থাকা সম্ভব। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও সামান্য শরীরচর্চার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মাল্টি জিম প্রিমিয়ামের ফিটনেস ট্রেইনার নাহিয়ান রানা।

নাহিয়ান রানা জানান, গরু-খাসির মাংস বা রেড মিট পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি উচ্চমাত্রার প্রোটিনের উৎস এবং শরীরের পেশি গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস খাওয়া হয় এবং সেটি বেশি ভাত, তেল ও চর্বির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। এতে শরীরে বাড়ে ওয়াটার ওয়েট, ইনফ্লামেশন, কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা।
রান্নার সময়েই সচেতনতা জরুরি
ঈদের মাংস সুস্থভাবে খাওয়ার প্রথম ধাপ শুরু হয় রান্নাঘর থেকেই। মাংস তরকারি হিসেবে রান্নার সময় অতিরিক্ত চর্বির অংশ বাদ দিলে অনেকটাই কমে যায় ক্যালোরি।
আবার যদি চর্বিসহ রান্না করতেই হয়, তাহলে আলাদা করে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ মাংসের চর্বি থেকেই পর্যাপ্ত তেল বের হয়ে আসে। প্রথমে হালকা আঁচে চর্বি গলিয়ে নিয়ে তারপর মসলা মাখিয়ে রান্না করলে খাবার তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হয়।
নাহিয়ান রানা আরও বলেন, প্রেসার কুকারের বদলে ধীরে ধীরে রান্না করলে মাংসের জটিল আবরণ ভেঙে যায়, ফলে হজমও সহজ হয়।

ঈদের দিন খেতে পারেন, তবে পরের দিন বদল আনুন
ঈদের দিনে গরুর মাংস খাওয়া আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ। তাই সেদিন পছন্দের খাবার খেতেই পারেন। তবে পরের দিনগুলোতে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঝোল বা অতিরিক্ত তেল-মসলার পরিবর্তে স্টেক, কাবাব, নেহারি কিংবা ঝুরা মাংস কম মসলায় রান্না করে অল্প পরিমাণে খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়ে।
রাতে মাংস নয়
দিনভর মাংস খেলেও সন্ধ্যার পর ভারী খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন এই ফিটনেস ট্রেইনার। কারণ রাতে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং রেড মিটের জটিল প্রোটিন হজম হতে বেশি সময় লাগে।
তাই রাতের খাবারে সবজি, সালাদ বা হালকা খাবার রাখাই ভালো। এতে শরীরও স্বস্তিতে থাকে।

পানি পানেও আছে নিয়ম
অনেকেই মাংস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডা পানি পান করেন, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। মাংস খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর পানি পান করলে হজম ভালো হয়।
এছাড়া মাংস খাওয়ার পর পেঁপে, কাঁচা আদা বা টক দই খেতে পারেন। এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং পেট ভার লাগা কমায়।
খাবারের সঙ্গে চাই শরীরচর্চাও
শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, ঈদের সময় শরীরকে সচল রাখাও জরুরি। প্রতিদিন অন্তত বিশ মিনিট হাঁটার পাশাপাশি এক মিনিট মাউন্টেইন ক্লাইম্বার ও এক মিনিট প্ল্যাঙ্ক করলে শরীর অনেকটাই সক্রিয় থাকে।
তবে কেবল ব্যায়াম করলেই হবে না, এর সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়।
কোরবানির ঈদ আনন্দের উৎসব। তাই আনন্দ হোক সুস্থতার সঙ্গেই।
সচেতনভাবে খাবার গ্রহণ,
পরিমিত জীবনযাপন আর সামান্য শরীরচর্চাই পারে ঈদের পর বাড়তি ওজনও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে।
ছবি: হাল ফ্যাশন
সূত্র: প্রথম আলো