শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

তারেক রহমানকে যে বার্তা দিতে চায় জুলাই শহীদ পরিবার

শহীদুল আলম ইমরান
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

রোববার, ২৫ জানুয়ারি ফেনী যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জেলা বিএনপির আয়োজনে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এছাড়া সভামঞ্চে সাক্ষাৎ করবেন ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের একদফা কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিতে নিহত ৮জনের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সাথে। তাদের সভাস্থালে আনা ও নির্দিষ্ট স্থানে বসানো এবং আপ্পায়নসহ নিরাপদে বাড়িতে পৌছানোর জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদা একটি টিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের আমন্ত্রণপত্র ও সভাস্থলে প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র পৌছানো হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত জানিয়ে শহীদ ্ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার জানান তিনি দাবি জানাবেন, দ্রুত বিচারের। একই সাথে মামলার আসামীদের যেন চার্জশিট থেকে বাদ না দেয়া হয় সে বার্তা দেবেন তারেক রহমানকে।

শহীদ ইশতিয়াক আহমদ শ্রাবনের পিতা নেছার আহমেদ জানান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তার সন্তানসহ গণ অভ্যুত্থানে হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে বিএনপির ভূমিকা কি- সে কথা জানতে চাইবেন তিনি।

শহীদ জাকির হোসেনের মা কহিনুর বেগম জানান,বিএনপি ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে তার পরিবারকে নানাভাবে সহযোগীতা করা হয়েছে। এখন ছেলে হত্যার বিচার দেখার অপেক্ষায় তিনি।

এখনও বুলেটের আঘাত নিয়ে বেঁচে আছেন তালিকাভুক্ত জুলাইযোদ্বা যুবদল নেতা নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন এখন চাওয়া ন্যায় বিচার, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারকে মর্যদা দেবে এমন প্রত্যাশা তার।

একই বক্তব্য জামশেদ রহমান নামে আরেক যোদ্ধার,তিনি দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এখনও তার শরীরে কয়েকটি বুলেট রয়ে গেছে। তারপরও তিনি বেঁচে আছেন সঠিক বিচার দেখার অপেক্ষা নিয়ে।

এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় ৮ হত্যসহ ২২টি মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা জানান সব বাদিরই একটি দাবি সঠিক বিচার নিশ্চিত করা। বিভিন্ন সময় মামলা থেকে আসামীদের বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র হলেও বাদি ও প্রশাসনের সচেতনতার কারনে তা সম্ভ হয়নি বলেও জানান মেজবাহ।

২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরতলীর মহিপালে আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিতে আন্দোলনরত ৮ জন নিহত হন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ আহত হন আরও শতাধিক। শহীদ হন ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সদর উপজেলার বারাহীপুর এলাকার ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ (১৯),ফাজিলপুর কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাইদুল ইসলাম (২০), পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে ওয়াকিল আহমেদ শিহাব (১৯),সোনাগাজীর চর মজলিশপুর মান্দারি গ্রামের আবদুল  ছেলে জাকির হোসেন সাকিব (২২), দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর জয়লস্কর এলাকার মো. শাহজাহানে ছেলে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সরোয়ার জাহান মাসুম, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মালেকের ছেলে অটোরিকশাচালক মো: সবুজ, মাহবুবুল হক মাসুম ও জাফর আহমদ। এছাড়া ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা অনেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হন। আহত হয় আরও শতাধিক।


এ জাতীয় আরো খবর...