বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

দরদাম আর বেচাবিক্রিতে সরগরম পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
দরদাম আর বেচাবিক্রিতে সরগরম পশুর হাট

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ১০০ ফুট বড় বেরাইদ স্বদেশ প্রোপার্টির খালি জায়গার পশুর হাটে জমজমাট বেচাকেনা দেখা যায়। সকালের দিকে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়, সঙ্গে বেচাবিক্রি।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাট ঘুরে ঘুরে ক্রেতারা গরু-খাসি দেখছেন, পছন্দ হলে দরদাম করছেন। হাটের যেসব অংশে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু রাখা ছিল, ওই সব অংশে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। হাট থেকে গরু কিনে ফেরা মানুষের হাতে হাতেও তুলনামূলক ছোট আকারের গরুই বেশি দেখা গেছে। বিক্রি হয়ে যাওয়ায় হাটের নির্ধারিত কিছু জায়গা ফাঁকাও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া গরুর দাম নিয়েও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

বিকেলের পর থেকে বেচাবিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাটের পাইকার ও খামারিরা। তাঁরা বলছেন, এবার ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। গ্রামের হাটের কাছাকাছি দামেই ঢাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে। অনেকে গরুপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ হলেও বিক্রি করে দিচ্ছেন আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে।

গতকাল বিকেলে বনানীর বাসিন্দা আবদুল মাজেদ এই হাট থেকে পাঁচটি গরু কেনেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার মণ ওজনের একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। বাকি চারটি গরুর ওজন তিন থেকে সাড়ে তিন মণের মধ্যে। সেগুলোর দাম পড়েছে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকার মধ্যে।

আবদুল মাজেদ বলেন, গত রোববার ও সোমবার তিনি তেজগাঁও পলিটেকনিক ও ৩০০ ফুটের হাট ঘুরে দেখেছেন। সেখানে বিক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দাম চাইছিলেন। তবে বড় বেরাইদ হাটে এসে দরদাম করে স্বাভাবিক দামেই গরু কিনতে পেরেছেন।

বাড্ডার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম এই হাট থেকে প্রায় ছয় মণ ওজনের একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, বিক্রেতা প্রথমে গরুটির দাম চেয়েছিলেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরে দরদাম করে ৫০ হাজার টাকা কমিয়ে কিনেছেন। দাম নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি।

শাহজাদপুর এলাকার সুমন রহমান পাঁচ মণের বেশি ওজনের একটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। তাঁর ভাষ্য, আগের দিন একই ধরনের গরুর দাম দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার তুলনামূলক কম দামে গরু কিনতে পেরেছেন তিনি।

কুষ্টিয়া থেকে ১৯টি গরু নিয়ে শনিবার সকালে হাটে আসেন মিজানুর রহমান। তাঁর আনা গরুগুলোর বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৬টি গরু বিক্রি করেছেন। বিক্রি হওয়া গরুর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। প্রতিটি গরুর দাম মণপ্রতি পড়েছে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

মিজানুর রহমান জানান, বিক্রি হওয়া ১৬টি গরুর মধ্যে মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ১০টি, আর বাকি ৬টি বিক্রি করেছেন সোমবার। সব খরচ বাদ দিয়ে এসব গরুতে তাঁর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। তবে এখনো মাঝারি আকারের তিনটি গরু অবিক্রীত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দাম মোটামুটি ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। এই দামে বিক্রি করতে পারলে চাষি বাঁচবে।’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা থেকে দুটি দুম্বা নিয়ে এসেছিলেন লিয়াকত আলী। নিজের খামারে পালন করা দুম্বা দুটির একটি গতকাল বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকায়। যদিও তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম চেয়েছিলেন। অবিক্রীত থাকা আরেকটি দুম্বার দাম চাইছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। প্রায় ১২০ কেজি ওজনের এই দুম্বাটি দুই লাখ টাকার আশপাশে বিক্রি করতে চান বলে জানান তিনি।

নাটোর থেকে ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন খামারি শফিকুল ইসলাম। গতকাল এক দিনেই বিক্রি করেছেন ৯টি, আগের দিন ৩টি। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় শেষ গরুটি নিয়ে এক ক্রেতার সঙ্গে দরদাম চলছিল।

প্রায় সাত মণ ওজনের গরুটিকে জরির মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। শফিকুল ইসলাম জানান, গরুটির দাম তিনি চেয়েছিলেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলছেন। এই দামে বিক্রি করলে তাঁর লোকসান হবে বলে জানান তিনি।

শফিকুল বলেন, সোমবার কয়েকজন ক্রেতা গরুটির জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাম বলেছিলেন। তাঁদের ইচ্ছা ছিল অন্তত আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করবেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুই লাখ টাকার বেশি কেউ দামই বলছেন না। দুই লাখের বেশি না হলে বিক্রি করা যাবে না, বললেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গ্রামের হাটবাজারে যে দামে গরু বিক্রি হয়েছে, ঢাকার হাটেও প্রায় একই দামে কেনাবেচা হচ্ছে।

খাসিও বিক্রি হচ্ছে বেশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ৪৫টি খাসি নিয়ে গতকাল বড় বেরাইদ পশুর হাটে আসেন পাইকার হারুন মিয়া। তিনি জানান, দুপুরের পর থেকে বেচাবিক্রি বাড়তে শুরু করে। বিকেল পর্যন্ত তিনি সাতটি খাসি বিক্রি করেছেন। তাঁর আনা বেশির ভাগ খাসির ওজন ৩০ থেকে ৩২ কেজির মধ্যে। এসব খাসি তিনি ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

হারুন মিয়ার আনা খাসিগুলোর মধ্যে সংকর জাতের বড় আকারের একটি খাসিও রয়েছে। প্রায় ৪০ কেজি ওজনের ওই খাসির দাম তিনি চেয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। তবে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা পেলেও বিক্রি করবেন বলে জানান।

বেড়াইদের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম এই হাট থেকে দুটি খাসি কিনেছেন ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, বিক্রেতারা শুরুতে দুই খাসির জন্য ৪৮ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরে দরদাম করে কম দামে কিনতে পেরেছেন।

সূত্র: প্রথম আলো


এ জাতীয় আরো খবর...