রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

ফেনীতে ভোট দেয়ার অপরাধে গৃহবধূকে তালাক;তিন সন্তানসহ জহুরার দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শহীদুল আলম ইমরান, ফেনী থেকে: স্বামীর নিষেধ উপক্ষো করে ভোট দেয়ার অপরাধে তালাক দেয়া ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরা ও তার তিন সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে জহুরার শশুর বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেয় আমরা বিএনপি পরিবার।

এসময় সংসার পরিচালনা, সন্তানদের বরণপোষন ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেয় বিএনপি। এছাড়া জহুরার সংসার পু:নস্থাপনে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপি নেতারা। আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের প্রতিনিধি দল। এসময় সংগঠনের সদস্য মোস্তাকিম বিল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল মেজবাহ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক ও ফেনী-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মিঠু জানান, তারেক রহমানের নির্দেশে নগদ অর্থ সহায়তা নিয়ে ঢাকা থেকে আমরা বিএনপি পরিবারের নেতৃবৃন্দ জহুরার স্বামীর বাড়িতে হাজির হয়। এসময় জহুরার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হয়। তার তিন সন্তানের বরণপোষন ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি জানান, প্রতি মাসে পরিবারের খরচের অর্থ জহুরার কাছে পৌছে দেবে সংগঠনের পক্ষ থেকে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরাকে বসবাসের জন্য একটি নতুন ঘর তৈরি করে তিবে আমরা বিএনপি পরিবার।

এদিকে বিপদের সময় বিএনপিকে পাশে পেয়ে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জহুরা। তিনি বলেন ধানের শীষে ভোট দেয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বিএনপিকে ভোট দিয়ে কোন ভুল করেননি বলেও মনে করেন জহুরা।

এর আগে শুক্রবার রাতে জহুরার সাথে দেখা করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এসময় জহুরা,তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পাশে থাকার কথা জানান। এরপরই বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনা হয়। খবর পেয়ে আমরা বিএনপি পরিবারকে ফেনীতে পাঠান তারেক রহমান।
কাওসারের মা শরীফা খাতুন জানান, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে। তিনি বলেন কাওসার ঘরে ফিরতে হলে জহুরাকে স্ত্রীর মর্যদা ফিরিয়ে দিতে হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার  ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে তালাক দেন। এ খবরে স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখে। স্ত্রীকে দেয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। এরপর তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে। এলাকাবাসী জানান, জহুরাকে ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সাথে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায়। তাও ধানের শীষ প্রতিকে। তখন কাওসার ঘুমে ছিলেন। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে কারো থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এখবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট  দেয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এসময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারন করেন। ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়। কাওসার আওয়ামী লীগ সময়ে সে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতো। পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেল গেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সে অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতো।


এ জাতীয় আরো খবর...