বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

মিন্টুকে নিয়ে ফেনীতে উচ্ছাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রথমবারের মতো দাগনভূঞাবাসী পেলো সংসদ সদস্য। আর দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ফেনী পেলো মন্ত্রী। এ কারনে আবদুল আউয়াল মিন্টুে নিয়ে জেলাজুড়ে উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়েছে। মিন্টুর হাত ধরেই ৫৪ বছরের খরা কাটিয়ে দাগনভূঞায় প্রথবার এমপি ও একইসাথে মন্ত্রী-এ যেন আলাদিনের ছেরাগ। মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলে উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান। তার এই অর্জনের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী নিয়ে ফেনীবাসীর ৩৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। আর প্রথমবারের মতো দাগনভূঞা উপজেলাবাসী পেলো সংসদ সদস্য। এ কারনেই অবহেলিত দাগনভূঞা জনপদের ভাগ্যাকাশে এ বিজয় সর্বত্র খুশির জোয়ার বইছে।

জীবনে প্রথম বার নির্বাচনে অংশ নিয়েই আবদুল আউয়াল মিন্টু হলেন এমপি, একইদিন শপথ নিলেন মন্ত্রীরও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পৌর শহরে উল্লাস ও সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ চলছে।

নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, ৭০-এর নির্বাচনের পর হতে অদ্যাবধি এ আসন থেকে ৪ বার আওয়ামী লীগ, ২ বার জাতীয় পার্টি ও ৩ বার বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে বিজয়ী প্রার্থীদের সবার বাড়ি ফেনী সদর ও সোনাগাজীতে। একসময় দাগনভূঞা উপজেলা ফেনী-২ আসনের সাথে থাকলেও ২০২৮ সালে ফেনী-৩ আসনে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সোনাগাজীর ৯টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও দাগনভূঞা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে ফেনী-৩ আসন গঠিত। ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) মোট ভোটার ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। পুরুষ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮শ জন, নারী ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন, মোট ভোট কেন্দ্র ১৬১টি। ফেনী সোনাগাজীর ২৮৪ কিমি ও দাগনভূঞার ১৭১ কিমির উত্তর-দক্ষিণ পরিধির মধ্যে এ আসন।

আসনটি দক্ষিণে চট্টগ্রামের মিরসরাই, উত্তরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা, পশ্চিমে নোয়াখালীর সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ এবং পূর্বে ফেনী সদর পর্যন্ত প্রান্তসীমায় নির্বাচনি এলাকা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়েছেন। ৪৯ হাজার ২৬২ ভোটে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বিজয়ী হন।

দেশের খ্যাতিমান এই শিল্পপতি মিন্টু এরআগে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র দুইবারের সভাপতিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নিজ যোগ্যতায় তিনি বেশ কয়েকটি পুরষ্কারও অর্জন করেন। নিজ এলাকা দাগনভূঞায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকা রেখে আসছেন। তার বাবা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান ও ভাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘উইমেন এন্টারপ্রিনার্স এসোসিয়েশান (ওয়েব)’ এর চেয়ারপার্সন। তার বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সভাপতি ছাড়াও তিনি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আকবর হোসেন বলেন, মিন্টু নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। ফেনী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পর ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি। এবার মন্ত্রী পাওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান হলো। এরমধ্য দিয়ে ফেনী জেলায় উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

এরআগে, ফেনী-১ আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে ৩৬ বছর আগে সংসদ সদস্য হয়ে এরশাদ সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্ণেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি।
###


এ জাতীয় আরো খবর...