শিরোনামঃ
নেপালে টানেলে কর্মরত শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনায় ‘অপ্রিয়’ থেকে ‘দেবতার আসনে’ পত্রিকা: ‘স্থানীয় নির্বাচন বর্জন করতে পারে জামায়াত জোট’ কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ল? মাগুরার আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের পত্রিকা: ‘বাজেট ও মূল্যস্ফীতির সমতা রক্ষায় পে-স্কেল’ বাজারে মানহীন বা নিম্নমানের পণ্য কীভাবে বুঝবেন? আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার পুলিশি বাধায় বাতিল, কী জানা যাচ্ছে?
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

মিরপুরে পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গুদামে আগুনে নিহত ৯

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে পোশাক কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে ৯ জন নিহত হয়েছে বলে চ্যানেল 24 অনলাইনকে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।নিহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

অন্যদিকে আগুনে দগ্ধ তিনজনকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মো. সুরুজ (৩০) ও মো. মামুন (৩৫)।

দুপুর দুইটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্নওপ্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও গোডাউনের ভেতরে জ্বলছে দাহ্য কেমিক্যাল, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত নয়টি লাশ আমরা পেয়েছি। ধারণা করছি, এরা সবাই কেমিক্যাল বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাস ইনহেল করেই মারা গেছেন। বিষাক্ত গ্যাসে খুব বেশি টক্সিক ছিল, যা তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যু ঘটাতে পারে। অনেকেই বের হয়ে যেতে পারলেও মৃতরা সম্ভবত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আর সরতে পারেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই ও তিন তলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সার্চিং অপারেশন এখনও চলছে।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি, তখন দুটি স্থানে আগুন দেখতে পাই, একটি গার্মেন্টস অংশে ও অন্যটি কেমিক্যাল গোডাউনে। তাই আগুনের মূল উৎস এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কেমিক্যাল গোডাউনের ভেতরে এখনও আগুন জ্বলছে। আমরা কাউকেই ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি না, এমনকি ফায়ার ফাইটারদেরও না। হিউম্যানলেস টেকনোলজি, ড্রোন এবং লুপ-৬০ গ্রাউন্ড মনিটরের মতো উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও সার্চিং কার্যক্রম চলছে।’

আলম কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি নামেই স্থানীয়রা স্থানটি চেনেন। তবে এখন পর্যন্ত কারখানার মালিক, ম্যানেজার বা কর্মচারীদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, কেমিক্যালটির অনুমোদন ছিল না। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, রূপনগরের শিয়ালবাড়ি পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনে ঘটনায় আমাদের এখানে দুইজন এসেছে। সুরুজের দুই শতাংশ  দগ্ধ হয়েছে ও মামুনের ইনহালেশন ইনজুরি রয়েছে তাদের দু’জনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানা যায়, ‘দুটো প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে একটি তৈরি পোশাক কারখানা, অন্যটি একটি রাসায়নিকের গুদাম। পোশাক কারখানাটি সাততলা। এর চারতলায় আগুন লেগেছে। আমরা পোশাক কারখানার এই আগুন মোটামুটি নিভিয়ে ফেলেছি। তবে রাসায়নিকের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এটা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’ রাসায়নিক কারখানায় ব্লিচিং পাউডার, প্লাস্টিক, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


এ জাতীয় আরো খবর...