শিরোনামঃ
কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা থামছে না কেন? ভারতে প্রবেশ প্রায় বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে পড়া হাতিগুলোর কী হবে? ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুলা, সামনে বৈরী কংগ্রেস ও বিভক্ত দেশ বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ কতদূর? পিরোজপুরে মধ্যরাতে মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন নিয়ে কী ঘটেছে পত্রিকা: ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে নতুন ধারণা’ ইংল্যান্ড কীভাবে নিজের প্রথম রাজাকে ভুলে গেল? টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে চায় পুলিশ বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ের আচরণ বদলে দেওয়াসহ বিশ্ব আবহাওয়ায় যে পাঁচ প্রভাব ফেলেছে এল নিনো রসে ভরপুর আখের নাম ‘ব্ল্যাক রুবি’, এর বৈশিষ্ট্য কী
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারে গাছে গাছে কদমের হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
মৌলভীবাজারে গাছে গাছে কদমের হাসি

বর্ষা আসতে আরও কিছুদিন বাকি। ঋতুর চক্রে এখনো ঝরঝর বাদলের সময় আসেনি। তবু বাদলের সঙ্গে এরই মধ্যে অনেকবার দেখা হয়ে গেছে। বর্ষা যে আসছে—‘বাদল–দিনের প্রথম কদম ফুল’ ফুটবে। সেই কদমগাছ এই গ্রীষ্মে, জ্যৈষ্ঠেই ডালে ডালে, শাখা-প্রশাখায় ফুল ফুটিয়ে জানিয়ে দিয়েছে—আমি এসে গেছি।

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে কদম ফুল নিয়ে বলেছেন, ‘কদম আমাদের অনুপম প্রকৃতির আত্মজ। বর্ণে গন্ধে সৌন্দর্যে কদম এ দেশের রূপসী তরুর প্রথমদের অন্যতম।’

মৌলভীবাজার শহরের শান্তিবাগ-সংলগ্ন মনু নদের পাড়ে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেকগুলো কদমগাছ আছে। কয়েক বছরে গাছগুলো একটু একটু করে বেড়ে উঠেছে। নদের পাড়টিকে ছায়াময় করেছে। গত বর্ষায় হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুটি ফুল ফুটেছে। তা কারও চোখে পড়েছে, কারও পড়েনি। তবে এবার এত উজাড় করা ভালোবাসা নিয়ে ফুল এসেছে—গাছ থেকে চোখ সরাবে, কারও সাধ্য নেই।

বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিন্যাস। পূর্ণ মঞ্জরিকেই একটি ফুল মনে হয়। শনিবার সকালে মৌলভীবাজার শহর–সংলগ্ন মনু নদের পাড়ে

আজ শনিবার মনু নদের পাড়ে গিয়ে দেখা গাছে, একাধিক মাঝারি, ছোট ও বড় আকারের গাছে ফুটেছে কদম ফুল। সকালের নির্মল ঝকমক করা আলোয় এই ফুলগুলো অনেক উজ্জ্বল রূপ নিয়ে হেসে উঠেছে। হলুদ-সাদা ফুলে ফুলে ডালগুলো নুয়ে এসেছে। ফুটন্ত ফুলগুলোয় হাজারো মৌমাছি ভিড় করেছে। শুধু যে মনু নদের পাড়েই কদম ফুটেছে, এমন নয়; মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ের দুটি গাছেও অনেক কদম ফুল ফুটেছে। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশে সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কেও একটি গাছে ঝুলছে কদম ফুল।

কদম দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখী গাছ। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো। গাছে অজস্র শাখা থাকে, যা মাটির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা বিরাট, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন একটি গাছ। এটি পথতরু হিসেবে পথিকের ছায়ার আশ্রয়। তবে ঝড়ঝাপটা সইতে কদম অতটা সবল নয়। শীত হচ্ছে পাতা ঝরার দিন। বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি পাতা অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রং হালকা। কদমের মঞ্জরি অনন্য সুন্দর।

গাছে গাছে এত ফুল ফুটেছে, যেন কদম ফুলের বন্যা এসেছে। শনিবার সকালে মৌলভীবাজার শহর-সংলগ্ন মনু নদের পাড়ে

বৈষ্ণব ঐতিহ্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রিয় কদমতরু কাব্য, সংগীত, চিত্র—সবকিছুতেই উল্লেখ আছে। তেমনি এই গাছের পূজার রীতিও হিন্দুসমাজে প্রচলিত। মন্দির, বিশেষত বৈষ্ণবদের আখড়ায় কদমগাছ লাগানো হয়ে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয় কদমের আদি নিবাস।

সূত্র: প্রথম আলো


এ জাতীয় আরো খবর...