মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

ফেনীতে দ্বিতীয় কারাগারের যাত্রা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

ফেনীতে দ্বিতীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর শনিবার সকালে ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জন বন্দি স্থানান্তরের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এরপর লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে আনা হয় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ২৭ বন্দিকে। এসময় জেল গেটে আসামীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা কারাগার থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮৮ আসাসীকে নকুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। এছাড়া ফেনী কারাগার-১ থাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার আসামীদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। নতুন বন্দিদের নিয়ে উদ্বেগের কারন নেই উল্লেখ করে ফেনী কারাগার-১ এর জেল সুপার মো: দিদারুল আলম জানান, বিভিন্ন মামলার বন্দিদের আলাদা স্থানে রাখা হবে।সংশোধনাগার হিসেব বিবেচনা করে বন্দিরা যেন মুক্তি পেয়ে কর্ম সংস্থান খুঁজে পায় সে হিসেবে তৈরি করা হবে।
আর ফেনী কারাগার-২ এর জেলার ফেরদৌস মিয়া জানান, আইনশৃংখলা অবনতির কোন আশঙ্কা নেই। কারন সব অপরাধীদের এক সাথে রাখা হবেনা। যার ফলে সবার সাথে সবার সাক্ষাত বা মেলােমশার সুযোগ থাকবেনা।
দেশের চার জেলায় (ফেনী, পিরোজপুর, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ) চারটি পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠা করছে সরকার৷ তার অংশ হিসেবে ফেনীতে দ্বিতীয় কারাগারের যাত্রা শুরু করা হয়।  অন্য তিনটির কাজ শেষ না হওয়ায় এখনই চালু হচ্ছেনা।
১৯১৫ সালে শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর প্রথমে উপ-কারাগার (সাব-জেল) হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বন্দিধারণ ক্ষমতা ছিল দুজন নারী ও ১৭০ জন পুরুষ মিলে মোট ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও কোনও সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামো আর অপ্রতুল জায়গায় ধারণ ক্ষমতার তিন-চারগুণ বেশি বন্দি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়তই ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না ।
শত বছরের পুরনো কারাগারকে প্রায় ৭ বছর পর আবারও তৈরি করা হয় বন্দিদের জন্য। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি শত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়। সেদিনই ৮ শতাধিক বন্দিকে পুরাতন কারাগার থেকে শহরতলীর রানীরহাটে নবনির্মিত জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
১৯৯৬ সালে শহরতলীর কাজিরবাগ মৌজায় সাড়ে ৭ একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগারের জন্য ২৮টি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ কারাগারে ২টি ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, ২.৫০ কেভি.এ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ১০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ, ২০ কেভি জেনারেটর ছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, অভ্যর্থনা মঞ্চ, প্যারেড গ্রাউন্ড, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। এ কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ৩৫০ জন।


এ জাতীয় আরো খবর...