নির্বাচনের বেশি সময় আর বাকি নেই। আমি এক বছর আগে বলেছিলাম, এই নির্বাচনটি আমরা যত সহজ ভাবছি, অ্যাকচুয়ালি (প্রকৃতপক্ষে) নির্বাচনটি তত সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সেদিন অনেকেই আমার কথাটি একটু হেসে খেলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে আপনারা প্রত্যেকেই অনুধাবন করতে পারছেন আমার সেদিনকার কথার অর্থ। আজ আবারও বলতে চাচ্ছি- এখনও যদি আমরা সিরিয়াস না হই। সামনে এই দেশের অস্তিত্ব সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তারেক রাহমান বলেন, এই নির্বাচনটি আমরা যত সহজ ভাবছি আসলে নির্বাচনটি তত সহজ নয়। সুতরাং দল যার হাতেই ধানের শীষ দিয়েছে না কেন, আপনি থাকবেন ধানের শীষের পক্ষে। প্রার্থী আসবে প্রার্থী যাবে। পর্যায়ক্রমে প্রার্থী চেঞ্জ হবে। ধানের শীষ রয়ে যাবে, দল রয়ে যাবে আদর্শ রয়ে যাবে। কাজেই ধানের শীষের পক্ষে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করবেন। ধানের শীষ জিতলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যেসকল পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা মানুষের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ব্যক্তি নয়, আপনার সামনে থাকবে ধানের শীষ। ধানের শীষকে আপনি বের করে নিয়ে আসবেন। ধানের শীষের পক্ষে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। ধানের শীষের জন্য জনগণের মতামতকে এক জায়গায় ব্যালট বক্সের ভিতরে নিয়ে আসবেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দেশের জন্য কি কি করতে চাই, আমরা যদি শুধু আমাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি তাহলে তো আমরা সংকুচিত হয়ে যাব। আমাদের কাজের পরিধি হচ্ছে দেশের ২০ কোটি মানুষ। তাই দেশ এবং মানুষ নিয়ে আমাদের যে দলীয় পরিকল্পনা সেই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মানুষকে এর পক্ষে সচেতন করতে হবে এবং এই সচেতনতার মাধ্যমে মানুষের রায় আপনার দলের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে আনতে হবে। ভোটের মাধ্যমে রায় আনতে হবে।
বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মাঠে নামতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কেউ কেউ বিএনপির নামে মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জনগণের মাঝে। কাজেই এই মিথ্যা বিভ্রান্তি বন্ধ তখনই হবে যখন বিএনপির প্রতিনিধি মাঠে হাজির হয়ে যাবে, তখন প্রতিবাদ বাড়বে। তারা আর এই বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে তাদের কথা বলছে। তারা যদি বলতে পারে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন বলতে পারবেন না? বললে সবাই বলবে না বললে কেউ বলতে পারবেন না। আপনি আপনার এলাকায় সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। বললে সবাই বলবেন, সবার বলার অধিকার আছে। কোন বিশেষ কারো জন্য হবে আর কারো জন্য হবে না। এটা তো হতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, আমার মা আমাদের সকলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক কি অবস্থা? এটা বলে আমি আমার নিজের কষ্টের কথাই বলতে পারতাম আপনাদের কাছে। আমি কিন্তু সেটা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি না। কারণ, আমরা রাজনীতি করছি দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য। আমরা যদি সারাক্ষণ আমাদের নিজের কষ্টের কথা বলতে থাকি তাহলে জনগণ কার কাছে যাবে? জনগণ কার কাছে গিয়ে তার কষ্টের কথা বলবে? জনগণ তো আপনার কাছেই যাবে তাদের কষ্টের কথা বলতে? তাদের দুর্দশার কথা বলতে। কাজেই আমাদেরকে এখন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। জনগণ যাতে আমাদের উপরে আস্থা রাখতে পারে সেভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।
নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো জনগণের ঘরে ঘরে নিয়ে যেতে হবে। মিটিং করে করে বললে হবে না ছোট ছোট গ্রুপ করে ঘরে ঘরে যেতে হবে। মাঠে মাঠে যেতে হবে। কৃষকের ক্ষেতে, যে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন, স্কুলের শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মা বোন স্কুল কলেজের তরুণ তরুণী, যুবকদের কাছে যেতে হবে ভাগ করে করে যেতে হবে। আপনারা পেরেছেন স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করতে, ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে, ইনশআল্লাহ আপনারাই পারবেন গণতন্ত্রের ভিত্তির মধ্য দিয়ে, আগামী দিনের যে ষড়যন্ত্র সেটিকেও মোকাবিলা করতে।