শিরোনামঃ
বাংলা ইশারা ভাষা দিবস আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি আগামীকাল পবিত্র শবে বরাত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানিতে রেকর্ড ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ত্রয়োদশ নির্বাচন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা ডাকসু দিয়ে শুরু, ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে : জামায়াত আমির ভোট গণনায় কেউ সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে: তারেক রহমান দেশ, জাতিসহ মুসলিম বিশ্বের উন্নতি কামনা তারেক রহমানের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি: শেখ হাসিনার দশ বছর ও টিউলিপের চার বছরের কারাদণ্ড মোংলা বন্দরে ৫৭,৫০০ টন মার্কিন গম খালাস শুরু
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

ইসিতেও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ: ফেনী-৩ আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

নির্বাচন কমিশনেও মনোনয়ন বৈধতা পেলেন ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। রবিবার বিকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থীর করা আপীল শুনানি শেষে মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আপিল শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন। এর মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানেরশীষ প্রতিক নিয়ে ভোট করতে আর বাধা নেই এ শিল্পপতির। এর আগে আবদুল আউয়াল মিন্টু মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার না করেই নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য গোপন করেছেন এমন অভিযোগ করে মনোনয়ন বাতিল চেয়ে গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক। আপিলে বলা হয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পরও আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হককেও বিবাদী করা হয়।

এদিকে, মিন্টুর মনোনয়ন ইসির আপিল শুনানিতেও বৈধ হওয়ায় আসনটির দুই উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন বলেন, ইসির রায়ের মধ্য দিয়ে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সত্যের জয় হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাবাসী স্বস্তিবোধ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন ধানেরশীষের পক্ষে গণ জোয়ার উঠবে। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন মিন্টুকে জয়ী করতে দলমত ভুলে মানুষ একাট্টা। তিনি বলেন, দল যার যার  মিন্টু ও ধানেরশীষ সবার এ মনোভাবেই মানুষ এগুচ্ছে। এমনিতেই মিন্টু প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে ভোটের হিসাব উলোটপালট হয়ে উঠে। তার ওপর আওয়ামী লীগের ভোট ঝুঁকে পড়ছে ধানেরশীষের পক্ষে। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় মিন্টুর আগে যে কোন দল থেকেই কোন হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করেননি। এতে বাড়তি সুবিধা বিএনপির।

তবে দীর্ঘ দিন আগে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় জামায়াত প্রার্থী মাঠ গুচিয়ে রাখেন।  প্রতিটি বাড়ি ঘরে পৌছানোর পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের মধ্যদিয়ে মানুষের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন জামায়াতের প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক।  এছাড়া, দলের মধ্যে ঐক্য থাকায় বাড়তি সুবিধায় রয়েছে জামায়াত। বিপরিতে বিএনপিতে এখনও মান অভিমান জমিয়ে আছে। সবশেষ ইউনিয়ন ভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি  ঘোষণা নিয়েও দুই ভাগে বিভক্ত দলের নেতাকর্মীরা। তবে দুই গ্রুপই ধানেরশীষের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে।

সব শঙ্কার মধ্যেও মিন্টু ও মানিক একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমবারের মতো এমপি পেতে যাচ্ছে দাগনভূঞা। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ফেনী সদর, সোনাগাজী, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাথে আসনে যুক্ত থাকলেও একবারও দাগনভূঞা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়নি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আবুল বাসার, ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ কৌরেশী ও ২০১৮ সালে আকবর হোসেন, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে রিন্টু আনোয়ার, ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াত থেকে মকবুল আহমদ নির্বাচন করলেও কেউ এমপি হতে পারেননি। এছাড়া  সব নির্বাচনেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র ভাবে দাগনভূঞা থেকে একাধিক প্রার্থী ভোটে অংশ নিলেও প্রতিবারই অন্য উপজেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবারের মতো সুযোগ এসেছে বিএনপি বা জামায়াতের যিনিই নির্বাচিত হন দাগনভূঞা থেকেই এমপি হচ্ছে। এ নিয়েও রয়েছে বাড়তি উচ্ছাস। সব মিলিয়ে মিন্টু ও মানিকের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা।

এ আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। এরা হলেন বিএনপির আবদুল আউযাল মিন্টু, জামায়াতের ফখরুদ্দিন মানিক, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল মালেক ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী। আসনটিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলের ১১ জন, এনমধ্যে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিয় কমর্কর্তা। মোট ভোটার ৫ লক্ষ ৩ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮শ’ জন, নারী ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৬১টি।


এ জাতীয় আরো খবর...