রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

১২ দিন পর মেয়ের মরদেহ খুঁজে বের করেন নিহতেরই বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার ১২ দিন পর গতকাল রোববার আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার করতে না পারলেও ঠিকই নিজের মেয়ের মরদেহ খুঁজে বের করেছেন নিহতেরই বাবা সুলতান। ওই নারীর নাম মারজিয়া সুলতানা (১৪)।

অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তুপ থেকে হারানো স্বজনদের দেহাবশেষ সবাই খুঁজে পেলেও মেয়েকে পাচ্ছিলেন না সুলতান। এমনকি উদ্ধার ১৬ মরদেহ থেকে জামাইয়ের মরদেহ বুঝে পেলেও তখনও মিলছিল না তার মেয়ের। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে চলে যায় ফায়ার সার্ভিস। এভাবে কেটে যায় ১২টি দিন। কিন্তু কিছুতেই বাবার মনকে বুঝ দিতে পারছিলেন না। সেজন্য বারবার ছুটে যান ঘটনাস্থলে মেয়ের খোঁজে, ঢুকতে চান ভবনের ভেতরে। প্রতিবারই ঝুঁকির কথা বলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। শেষমেশ মানবিক বিবেচনায় রোববার অনুমতি মেলে ওই ভবনে ঢোকার। তার সঙ্গে ছিলেন মামা ও ভাই। হঠাৎ ভবনের তৃতীয় তলায় কাপড়ের অংশ দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। কেননা এই কাপড় তাদের খুব পরিচিত। শনাক্ত করতে পারেন মারজিয়াকে।

নিহতের স্বজনরা জানান, অনুমতি নিয়েই তারা ৭ জন সেখানে প্রবেশ করেন। ওই অফিসের ভেতর টেবিলের নিচে একটা গেঞ্জির ভেতর মরদেহের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার কথা জানান তারা। তাদের দাবি, আগুনে পুড়ে মারা যায়নি।

গতকাল রোববার রাতেই মারজিয়ার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। সোমবার ফের মেয়ের মরদেহের জন্য মর্গের বারান্দায় ছুটতে দেখা যায় বাবা সুলতানকে। এখনও শেষ হয়নি তার অপেক্ষা। পুলিশ বলছে, ডিএনএ শনাক্ত শেষে মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে সময় লাগবে আরও কিছুদিন।

এ বিষয়ে সিআইডি পরিদর্শক মো. আবদুর রশিদ বলেন, নিহতের বাবার ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাবা-মেয়ের ডিএনএ মিলে গেলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...