রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

ফেনী পৌরসভায় ফিরতে প্রকৌশলি আজিজের তোড়জোড়

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বদলির এক বছর পার না হতেই আবারও ফেনীতে বদলির জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আজিজ হক। গত ৫ নভেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনায়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর ফেনী পৌরসভায় বদলির জন্য লিখিত আবরদন করেন। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় কর্মরত আছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, তার মা ও স্ত্রী অসুস্থ, তিন মেয়েকে দেখার কেউ নেই। অথচ আজিজের স্ত্রী সন্তানরা কেউ ফেনীতে থাকেননা। সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। তিন সন্তান পড়ালেখা করে ঢাকায়। তিনি বর্তমান কর্মস্থলেও যাতায়াত করেন ঢাকার বাসা থেকে। মূলত ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম বাতেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক পদোন্নতি পেয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছেন আজিজি। এর আগেও অক্টোবর মাসে ফেনী পৌরসভায় বদলির চেষ্টা চালান আজিজ। ২০০৯ সালে ফেনী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করে ২০২৪ পর্যন্ত ১৫ বছর এ কর্মস্থলে থেকে বর্তমানে মো. আজিজুল হক এখন নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন।

নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আজিজকে ফেনী থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভায় বদলী করা হয়। ইতিপূর্বে তাকে একাধিকবার বদলী করা হলেও সাবেক এমপি নিজাম হাজারীর প্রভাব খাটিয়ে এসব আদেশের তোয়াক্কা করেন নি। তিনি নিজাম হাজারীকে মামা পরিচয় দিয়ে তৎকালীন মেয়রসহ পৌর পরিষদকে পাত্তা দিতেন না। তবে ৫ আগষ্ট গণঅভ্যত্থানের পর তার অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে পৌরসভায় ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও নারী কেলেংকারীসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর ফেনী পৌরসভা লুটপাটে রামরাজত্ব চালিয়েছেন ৬ সিন্ডিকেট সদস্য। এতে লুটে নিয়েছে শত কোটি টাকা। বিগত সময়ে ফেনী পৌরসভার কনজারভেন্সি শাখা থেকে লুট হয়েছে ২৮৮ কোটি টাকা। এসব লুটে সহযোগিতার জন্য এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন আজিজ।

তাদের এ অপকর্ম অব্যাহত রাখতে পৌর অর্থায়নে সাবেক এমপি নিজামের হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তার মালিকীয় গ্রিন হাউজ, ৬টি বাড়ি ও ৫টি পুকুরঘাটে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ নির্মাণ ও পারিবারিক কবরস্থানকে সুসজ্জিত করে রাখতেন। প্রতি অর্থবছরে এর পেছনে পৌরসভার ব্যয় হতো প্রায় কোটি টাকা। পৌরসভার বিধিমালার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৌরসভার রাজস্বের টাকা বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫টি বহুতল ভবন তৈরি, হাটবাজার স্কুল কলেজের গেট নির্মাণ, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনী মডেল থানার উন্নয়ন ও দুই পাশে দুইটি দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবির সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ কর্তাদের ব্যক্তিগত বাসার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করেছেন। এই সিন্ডিকেটের অপকর্ম নিয়ে তৎকালীন মেয়র, কাউন্সিলর বা কোনো কর্মচারী প্রতিবাদের সাহস করতেন না। প্রতিবাদ করতে চাইলে এমপি নিজামকে দিয়ে তাদের শাসানো হতো।

এদিকে, আজিজের ফেনী মিজান রোডে জেলা পরিষদ সংলগ্ন ৩ হাজার ২০০ স্কয়ার বর্গফুটের আলিশান ফ্লাট রয়েছে, পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড সাহেব বাজার এলাকায় রয়েছে তার ছয় শতাংশ জায়গার মধ্যে আলিশান বাড়ি ও পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডে পাগলামিয়া সড়কের পশ্চিম অংশে চাড়িপুর মোজায় অবস্থিত ১০ শতাংশ যার প্রতি শতাংশ জায়গার দাম রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। ঐ জায়গা মাটি ফেলে সাইড ওয়াল করে গেট লাগিয়ে রাখা হয়েছে। কোয়াটার রেলগেট এলাকায় রয়েছে তার গোডাউন, রাজপ্রাসাদ নামে একটি টাওয়ারে কোটি টাকার আলিশান ফ্লাট ও ফেনী পৌরসভার অধীনে অবৈধ নির্মিত পিটিআই গেটে অবস্থিত মার্কেটে রয়েছে কোটি টাকার দুটি দোকান। ফেনী পৌরসভায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, ঢাকায়ও তার অনেক সম্পদ আছে শুনেছি। আমার জানামতে তার ঢাকা উত্তরাতে একটি ফ্লাট আছে। ওই ফ্লাটে তার দুই মেয়ে থেকে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজে পড়ালেখা করে। আজিজুল হকের বড় মেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বেসরকারি মেডিকেলে পড়ালেখা করে বলে জানা যায়।


এ জাতীয় আরো খবর...