ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। সেটিও ফুরালো। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে স্কটল্যান্ডকে অন্তুর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর আগে আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা এক চিঠিতে আইসিসি’র বোর্ড সদস্যদের জানান, বাংলাদেশের দাবি আইসিসি’র নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানছে না এবং সে কারণে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য অন্য একটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। সেই দেশটি স্কটল্যান্ড। এই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসি বোর্ডের সদস্য আমিনুল ইসলামের কাছেও পাঠানো হয়। এদিকে, বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়্যারম্যান মহসিন নাকভি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কট করা পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা মেনে চলতে বাধ্য। আমরা আইসিসি’র চেয়ে পাকিস্তান সরকারের প্রতি বেশি অনুগত, তাই সরকার যা বলবে আমাদের তাই করতে হবে। সরকারের নির্দেশ পেলে আমরাও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবো।’
আইসিসি গত বুধবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে। এরপর সরকারের সঙ্গে কথা বলতে আইসিসি’র কাছ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল বিসিবি। তবে এ সময়েও সরকারের সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। আইসিসি ভেন্যু না বদলালে ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে না- এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং স্কটল্যান্ডের। এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপ থেকে তারা ৭ই ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ই ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতায় খেলবে। এরপর ১৭ই ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে খেলবে নেপালের বিপক্ষে। ভারতের উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩রা জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল এবং সমর্থক-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ভারত কীভাবে দেবেÑ এমন প্রশ্ন তুলে টুর্নামেন্টের আরেক আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি জানায় বিসিবি। কিন্তু আইসিসি’র বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে অধিকাংশ সদস্য দেশ ভেন্যু না বদলানোর পক্ষে মত দেন। তারপরেই আসে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত। যদিও বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো মেইল পায়নি জানিয়ে বিসিবি’র এক পরিচালক বলেন, ‘আমাদের চাওয়া বিশ্বকাপ খেলুক বাংলাদেশ। তাই সভাপতিকে শেষবারের মতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিচালকরা।
বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেন, ‘বাংলাদেশের দাবি যৌক্তিক ছিল। কিন্তু আইসিসি সেটা মেনে নেয়নি। আমাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতে হলেও আমরা বিশ্বকাপ না খেলার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে সেটা সরকারের মতামতের ওপর নির্ভর করে। পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে কী হবে- এমন প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, ‘দেখুন, পাকিস্তান সরকার যদি বলে খেলবো না, তবে তারা (আইসিসি) ২২তম দল নিয়ে আসুক। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারকেই নিতে হবে। এটি পাকিস্তান সরকার জানাবে। প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় আছি, তিনি এলে সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আগে সিদ্ধান্ত আসুক, আমাদের কাছে প্ল্যান এ, বি, সি, ডি- সবই আছে’। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়ে নাকভির ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, এর পেছনে অনেক বিষয় জড়িত। আমি এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে সময় এলে জানাবো কীভাবে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহ আবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সচিবও ছিলেন একসময়। তাই ভারত যদি কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পাকিস্তান তা মেনে নেবে না। নাকভি বলেন, ‘বাংলাদেশও আইসিসি’র তেমনি সদস্য যেমন পাকিস্তান। আমাদের কথা হলো, যদি পাকিস্তান ও ভারতের জন্য এই সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশের জন্যও তাই করা উচিত। কোনো একটি দেশ অন্য কাউকে করতে পারে না। যদি এমন চেষ্টা করা হয়, তবে পাকিস্তানের নিজস্ব অবস্থান আছে এবং আমরা সেখানেই অনড় থাকবো।’