পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আয়রনের উৎস এটি। আছে আরও বহু গুণ। স্বাদেও সেরা। তবু গরু-খাসির কলিজা আর ভুঁড়ির জনপ্রিয়তার মাঝে অবহেলিত থেকে যায় এই অঙ্গটি।
এটি পশুর এমন একটি অঙ্গ, যেটি কোরবানির সময় কলিজা বা ভুড়ির জনপ্রিয়তার মাঝে অনেক সময়ই অবহেলিত থাকে। অথচ এই অঙ্গটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সাধারণ মাংস বা অনেক উদ্ভিজ্জ খাবারের তুলনায় অনেক বেশি খাদ্য উপাদানে ভরপুর।

বিশেষ করে এতে প্রচুর হিম আয়রন, প্রয়োজনীয় বি-ভিটামিন এবং বিশেষ কিছু উপকারী পেপটাইড থাকে। একে আমরা সাধারণ ভাষায় তিল্লি বা মাইট্যা কলিজা বলি। ইংরেজিতে বলা হয় স্প্লিন।
অসাধারণ পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম রান্না করা গরুর স্প্লিনে সাধারণত পাওয়া যায়—
হিম আয়রন: প্রায় ৩৯–৪৫ মিলিগ্রাম আয়রন, যা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আয়রনের উৎসগুলোর একটি বানিয়েছে।
ভিটামিন বি১২: দৈনিক চাহিদার ২০০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে পারে।

ভিটামিন সি: প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম, যা দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি। সাধারণ মাংসে এ পরিমাণ ভিটামিন সি খুবই বিরল। অবশ্য উচ্চতাপে রান্না করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়।
ট্রেস মিনারেল: কপার, ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কে সমৃদ্ধ।
প্রোটিন: প্রায় ১৮–২৫ গ্রাম উচ্চমানের ও সহজপাচ্য প্রোটিন।
সাধারণ খাবারের তুলনায় কেমন?
১. সাধারণ মাংসের তুলনায়
স্টেক বা মুরগির বুকের মাংসে ভালো প্রোটিন থাকলেও, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের দিক থেকে স্প্লিন অনেক এগিয়ে।
১০০ গ্রাম গরুর স্টেকে যেখানে প্রায় ২–৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ স্প্লিনে ৪০ মিলিগ্রামেরও বেশি আয়রন পাওয়া যায়, যা মাংসের তুলনায় অন্তত ২০ গুণ বেশি।

২. উদ্ভিজ্জ খাবারের তুলনায়
পালং শাক বা মসুর ডালের মতো উদ্ভিজ্জ খাবারে নন-হিম আয়রন থাকে, যা শরীর খুব কম পরিমাণে শোষণ করতে পারে। কিন্তু গরুর স্প্লিনের হিম আয়রন শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। ফলে অল্প পরিমাণ স্প্লিনই দৈনিক আয়রনের চাহিদা কয়েকগুণ পূরণ করতে সক্ষম।
৩. অন্যান্য অঙ্গের মাংসের তুলনায়
কলিজা ভিটামিন এ-এর জন্য বিখ্যাত হলেও, স্প্লিন বিশেষভাবে পরিচিত এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন সি-এর জন্য। দুটিতেই ভালো আয়রন ও জিঙ্ক থাকলেও, রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তার ক্ষেত্রে স্প্লিনকে অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস ধরা হয়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
রক্তস্বল্পতা ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে
হিম আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর সমন্বয় রক্তস্বল্পতা দূর করতে, হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি কমাতে কার্যকর।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
স্প্লিনে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ পেপটাইড—যেমন টাফটসিন—শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে
উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি১২ ও নিয়াসিন স্মৃতিশক্তি, স্নায়ুর স্বাস্থ্য এবং মানসিক কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

কীভাবে খেতে পারেন?
যারা সাধারণ মাংস খেতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে স্প্লিন কিছুটা আয়রনি টেস্টের ও নরম টেক্সচারের লাগতে পারে। বিভিন্ন দেশে এটি কিমার সঙ্গে মিশিয়ে, স্লো কুক করা স্ট্যুতে ব্যবহার করা হয়। ইতালিতে ফ্রিটেল্লে (স্প্লিন প্যানকেক) তৈরি করেও খাওয়া হয়ে থাকে। আবার স্প্লিন স্যান্ডউইচও খুব জনপ্রিয়।

তবে আমাদের দেশে তিল্লি ভুনা, ভর্তা বা ভাজা খাওয়া হয় কোরবানির সময়। বিভিন্ন কাবাবের দোকানে তিল্লির কাবাব পাওয়া যায়। তিল্লি দিয়ে মুড়িমাখাও আমাদের এক লোকাল ডেলিক্যাসি।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম
সূত্র: প্রথম আলো