অনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে পিসিবি, বিসিবি ও আইসিসির বৈঠক। তবে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। ত্রিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সাথে আইসিসিতে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য কমানো থেকে শুরু করে, পিসিবি রেভেনিউ শেয়ারিংয়ে আরও বড় অংশ দাবি করেছে বলছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম।
মূলত, সার্বিক এই প্রেক্ষাপট ক্রিকেট বিশ্বের সবার জানা। নিরাপত্তা ঝুকিতে বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর দাবি উপেক্ষা করে টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয় আইসিসি। এরপর বেঁকে বসে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার।
এদিন সন্ধ্যায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবির সদর দফতরে যান আমিনুল ইসলাম। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাগভির সাথে প্রথমে হয় তার বৈঠক। দুই বোর্ড প্রধান আইসিসির সাথে আলোচ্য বিষয় ঠিক করে নেন সভাতে। পিসিবি জানায় বুলবুল পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবার জন্য।
একই দিন পাকিস্তানে পৌছায় আইসিসির প্রতিনিধি দলও। আইসিসির হয়ে কথা বলতে লাহোরে যান সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ও আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা। রাত ১০টায় শুরু হয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা এই সভায় কি আলোচনা হয়েছে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি কোন পক্ষ। তবে পাকিস্তানি গনমাধ্যম বলছে বাংলাদেশকে অন্যায় ভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ায় দু:খ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে আইসিসিকে।
সেই সাথে বাংলাদেশে যেন শতভাগ পার্টিসিপেশন মানি পায় এবং কোন আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে সেটি আলোচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এশিয়াকাপ ও বিশ্বকাপের বহুজাতিক ইভেন্টের হোস্ট হিসেবে বিবেচনায় থাকে বাংলাদেশ।
পিসিবি প্রধান মহসিন নাগভি আইসিসিতে বিসিবির কতৃত্ব কমানোর দাবি তুলেছেন। সেই সাথে আইসিসির বাৎসরিক আর্থিক বরাদ্দে পাকিস্তানের টাকা বাড়াতে বলেছে। বলা হয়েছেন ভারত পাকিস্তান দ্বিপক্ষিক সিরিজের কথা। সেই সাথে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে রাখতে হবে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ। সেই সাথে ভারতকে হাত না মেলানোর মতো অসৌজন্য আচর বর্জন করা দাবি তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সফরে দেশটির বসন্ত উৎসবে অংশ নেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা গেছে তাকে। তবে রাতেই পাকিস্তান ছেড়েছেন বুলবুল। বিমানবন্দরে থাকে বিদায় জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।