শিরোনামঃ
একটি ভুল সিল, ৫ বছরের কান্না: জেনে নিন ‘যোগ্য প্রার্থী’ চেনার গোপন সূত্র ২০৮ আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোট জিততে পারে ৪৬টিতে: ইএএসডি’র জরিপ ক্ষমতায় গেলে যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষাণা তারেক রহমানের জামায়াত ক্ষমতায় এলে নিরাপদে থাকবেন নারীরা, তরুণরা হবে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সভা-মিছিল বন্ধ বিসিবি-পিসিবি-আইসিসি চার ঘণ্টার বৈঠকে কী আলোচনা হলো? ভোটের ফলাফল বিলম্ব হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই: ইসি সচিব দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার শিগগিরই জানা যাবে উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্য: প্রেস সচিব ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

একটি ভুল সিল, ৫ বছরের কান্না: জেনে নিন ‘যোগ্য প্রার্থী’ চেনার গোপন সূত্র

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভোটের দিন সকালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা যখন ব্যালট পেপারে সিলটি দিই, তখন কি একবারও ভাবি—এই সিলটি আসলে কার ক্ষমতায়নের চাবি? আবেগ, আত্মীয়তা কিংবা সামান্য টাকার বিনিময়ে আমরা অনেক সময় এমন কাউকে বেছে নেই, যিনি পরবর্তী ৫ বছর আমাদেরই শোষণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই নেতার দুর্নীতির দায়ভার কি কেবল তারই? নাকি যিনি তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, সেই ভোটারেরও?

সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতিবাজকে ভোট দেওয়া আসলে দুর্নীতির অংশীদার হওয়ারই নামান্তর।

গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা জনগণের হাতে। আপনি যদি জেনেশুনে কোনো অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিকে ভোট দেন, তবে তার পরবর্তী অপকর্মের নৈতিক দায়ভার আপনার ওপরও বর্তায়।

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “একজন চোরকে চাবি দিয়ে সিন্দুক পাহারা দিতে বলা আর তাকে চুরি করার লাইসেন্স দেওয়া একই কথা। তাই প্রার্থীর অতীত না জেনে ভোট দেওয়া একটি বড় ধরণের সামাজিক অপরাধ।”

নির্বাচনের আগে সব প্রার্থীই ধোয়া তুলসী পাতা সাজেন। কিন্তু সচেতন ভোটার হিসেবে আপনাকে কিছু ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কবার্তা দেখে আসল মানুষটিকে চিনতে হবে:

১. হঠাৎ দরদী: যে নেতা গত ৪ বছর এলাকায় আসেননি, তিনি নির্বাচনের আগে হঠাৎ দানবীর হয়ে গেলে বুঝবেন—এটি সমাজসেবা নয়, এটি বিনিয়োগ। নির্বাচনের পর তিনি সুদে-আসলে তা উসুল করবেন।

২. আয়ের সাথে ব্যয়ের অমিল: প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া আয়ের উৎসের সাথে তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের মিল আছে কি না দেখুন। দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা ছাড়াই কোটিপতি হওয়া প্রার্থী কখনোই সৎ হতে পারেন না।

৩. প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা: যিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখান, তিনি আসলে প্রতারক। একজন যোগ্য নেতা জাদুকর নন, তিনি পরিকল্পনাকারী।

এখন প্রার্থীর আমলনামা বের করা পানির মতো সহজ। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে নিচের কাজগুলো করুন:

  • গুগল সার্চ: প্রার্থীর নাম লিখে গুগলে সার্চ দিন। তার পুরনো কোনো মামলা বা কেলেঙ্কারির খবর আছে কি না যাচাই করুন।

  • হলফনামা চেক: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীর হলফনামা দেখুন। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার তার সম্পদ কত গুণ বেড়েছে? যদি তা অস্বাভাবিক হয়, তবে তাকে বর্জন করুন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি আমাদের বিবেক পরীক্ষার সময়। একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু ৫ বছরের দুর্ভোগ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অন্ধকার অধ্যায় রচনা করতে পারে।

তাই আবেগে নয়, বিবেকের তাড়নায় ভোট দিন। মনে রাখবেন, আপনার একটি সিলের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।


এ জাতীয় আরো খবর...