রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

ফেনীতে মাদ্রাসার অফিস সহকারীকে পিটিয়েছে শিবির

স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

জামায়াত বিরোধী আখ্যা দিয়ে ফেনী আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো: আনোয়ার হোসেন ভুঁঞাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সবাই ছাত্র শিবির কর্মী বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। হামলায় তার মুখ,হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে। এসময় তার সাথে থাকা স্মাট মোবাইল ফোনসেট, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়।

৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে জেলা শহরের খাজুরিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় হামলার শিকার হন জেলা সবচেয়ে বড় মাদ্রাসার এ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি বা করেনি। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে। এর আগেও তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল হামলাকারীরা- এমন অভিযোগে ৮ সেপ্টেম্বর ফেনী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

আনোয়ার হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল আকসা হাসপাতাল থেকে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে শিবির কর্মী মোহাম্মদ আল হাসান, আবু বকর ছিদ্দিক, ফরহাদ হোসেন ও মোহাইমিন উদ্দিন খানসহ আরো ৭/৮ জন পথরোধ করে। এসময় তারা মাদ্রাসার চাকরী ছেড়ে দিতে একাধিকবার বলার পরও না শোনা এবং থানায় জিডি করার কারন জানতে চান। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আনোয়ারকে কিলঘুষি, লাথি ও লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তার সাথে থাকা বক্তারমুন্সি ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল নুরুল আফসার ফারকী রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকেও হুমকি দেয় হামলাকারিরা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, জিডি করার পর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। পুলিশ আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এ ধরণের ঘটনা ঘটতোনা বলেও মনে৷ করেন আনোয়ার হোসেন।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল গাজী মীর মো: ইকবাল হাসান জানান, আনোয়ার হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করেন।

এদিকে ফেনী মেডল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর শাখার মাদ্রাসা সম্পাদক আল হাসান বলেন, আলিয়া মাদ্রসার সাবেক অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানের সহযোগী ছিলেন আনোয়ার। মাহমুদুল চলে যাওয়ার পর সে (আনোয়ার) ন্যায়ের পক্ষে থাকবে, অনৈতিক কাজগুলোতে আর জড়াবে না-এমন কথা বলে এখানে রয়েছে।

শিবিরের আরেক কর্মী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন,সেদিন রাতে তিনি বাসায় ছিলেন,আনোয়ার আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের টাকা মেরে খেয়েছে। মারার ইচ্ছে থাকলে আমরা তাকে মাদ্রাসায় মারতে পারি,কে মারছে-না মারছে সে ব্যাপারে তো জানি না।

এর আগে ওই মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করা হয়। ওই ঘটনায়ও জামায়াত-শিবির জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগে জামায়াত নেতা জাকির হোসেনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।


এ জাতীয় আরো খবর...